যে সংকেতে একটি যৌগের মৌলগুলোর পরমাণু সংখ্যার সরলতম পূর্ণসংখ্যা
অনুপাত প্রকাশ করা হয়, তাকে স্থূল সংকেত বলে।
মনে রেখো: স্থূল সংকেত কেবল অনুপাত বলে, আসল সংখ্যা বলে না।
যেমন: গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆ হলেও স্থূল সংকেত CH₂O (সরলতম অনুপাত ১:২:১)
যৌগ
আণবিক সংকেত
স্থূল সংকেত
গ্লুকোজ
C₆H₁₂O₆
CH₂O
বেনজিন
C₆H₆
CH
হাইড্রোজেন পারক্সাইড
H₂O₂
HO
মিথেন
CH₄
CH₄
👀
উদাহরণ: গ্লুকোজের স্থূল সংকেত নির্ণয়
ধাপ ১
গ্লুকোজের আণবিক সংকেত: C₆H₁₂O₆
পরমাণুর সংখ্যা: C = ৬, H = ১২, O = ৬
ধাপ ২
সরলতম অনুপাত পেতে সব সংখ্যাকে ছোটো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করি।
এখানে সরলতম সংখ্যা ৬
ধাপ ৩
C: ৬ ÷ ৬ = ১
H: ১২ ÷ ৬ = ২
O: ৬ ÷ ৬ = ১
ধাপ ৪
স্থূল সংকেত: CH₂O
এটাই হলো সরলতম পূর্ণসংখ্যা অনুপাত (১:২:১)
👀
উদাহরণ ২: শতকরা সংযুতি থেকে স্থূল সংকেত (বোর্ডে খুব গুরুত্বপূর্ণ ধরন!)
একটি যৌগে কার্বন ৪০%, হাইড্রোজেন ৬.৬৭% এবং অক্সিজেন ৫৩.৩৩% আছে। যৌগটির স্থূল সংকেত নির্ণয়
করো।
ধাপ ১: ধরি ১০০g যৌগ আছে → C = ৪০g, H = ৬.৬৭g, O = ৫৩.৩৩g
ধাপ ২: প্রতিটি মৌলের ভরকে তার পারমাণবিক ভর দিয়ে ভাগ করে মোল সংখ্যা বের
করো:
C = ৪০/১২ = ৩.৩৩ | H = ৬.৬৭/১ = ৬.৬৭ |
O = ৫৩.৩৩/১৬ = ৩.৩৩
ধাপ ৩: সবচেয়ে ছোট মোল সংখ্যা (৩.৩৩) দিয়ে সবগুলোকে ভাগ করো:
C = ১ | H ≈ ২ | O = ১
স্থূল সংকেত = CH₂O — এই কৌশলটি প্রায় প্রতি বোর্ড পরীক্ষায়
আসে, তাই ভালোভাবে অনুশীলন করো।
✍️
নিজে করো: বেনজিনের স্থূল সংকেত বের করো
বেনজিনের আণবিক সংকেত: C₆H₆
এখন তুমি নিজে স্থূল সংকেতটি বের করো। দরকার হলে hint ব্যবহার করো:
সরলতম সংখ্যা কত দিয়ে ভাগ করলে পূর্ণসংখ্যা পাবি?
৬ এবং ৬ উভয়কেই ৬ দিয়ে ভাগ করো।
C: ৬ ÷ ৬ = ১
H: ৬ ÷ ৬ = ১
স্থূল সংকেত: CH
অতিরিক্ত অনুশীলনী ১: একটি যৌগে সোডিয়াম ৩২.৪%, সালফার ২২.৫% এবং অক্সিজেন
৪৫.১% আছে। যৌগটির স্থূল সংকেত নির্ণয় করো।
মোল: Na = ৩২.৪/২৩ ≈ ১.৪১, S = ২২.৫/৩২ ≈ ০.৭০, O = ৪৫.১/১৬ ≈ ২.৮২
ছোট সংখ্যা (০.৭০) দিয়ে ভাগ করলে: Na ≈ ২, S = ১, O ≈ ৪
স্থূল সংকেত: Na₂SO₄
অতিরিক্ত অনুশীলনী ২ (উল্টো দিক থেকে): একটি
যৌগের স্থূল সংকেত CH₂ এবং আণবিক ভর ৪২। যৌগটির আণবিক সংকেত নির্ণয় করো।
স্থূল সংকেত CH₂-এর ভর = ১২+২ = ১৪
n = আণবিক ভর ÷ স্থূল সংকেতের ভর = ৪২ ÷ ১৪ = ৩
আণবিক সংকেত = (CH₂)₃ = C₃H₆
✅
যাচাই করো: কুইজ
১. গ্লুকোজের স্থূল সংকেত কী?
A C₆H₁₂O₆
B CH₄O
C CH₂O
D C₂H₅O
২. H₂O₂-এর স্থূল সংকেত কী?
A H₂O₂
B HO
C H₂O
D OH
৩. একটি যৌগে C ৪০%, H ৬.৬৭%, O ৫৩.৩৩% থাকলে স্থূল সংকেত কী হবে?
A CH₂O
B CHO
C CH₄O
D C₂H₄O₂
🎉
মডিউল ১ সম্পূর্ণ!
তুমি স্থূল সংকেত শিখে গেছো। পরবর্তী মডিউলে যাও।
পড়ো → দেখো → নিজে করো → যাচাই করো
রাসায়নিক বিক্রিয়া ও সমীকরণ
বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদ কীভাবে লেখা হয়
📖 পড়ো
👀 দেখো
✍️ নিজে করো
✅ যাচাই করো
📖
মৌলিক ধারণা
বিক্রিয়ক → উৎপাদ
চিহ্ন
অর্থ
(s)
কঠিন (solid)
(l)
তরল (liquid)
(g)
গ্যাস (gas)
(aq)
জলীয় দ্রবণ (aqueous)
Δ
তাপ প্রয়োগ
৬টি নিয়ম:
১. বিক্রিয়ক বাম দিকে, উৎপাদ ডান দিকে
২. প্লাস (+) চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা হয়
৩. তীর চিহ্ন (→) বিক্রিয়ার দিক দেখায়
৪. ভৌত অবস্থা লেখা হয় কোষ্ঠকে
৫. তাপের প্রয়োজন হলে Δ উপরে লেখা হয়
৬. সমীকরণ সর্বদা সম্মত হতে হবে
👀
উদাহরণ: সমীকরণ লেখা
ম্যাগনেসিয়াম অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড তৈরি করে:
ধাপ ১: শব্দে লেখো
ম্যাগনেসিয়াম + অক্সিজেন → ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
ধাপ ২: সংকেতে লেখো
Mg + O₂ → MgO
কিন্তু এখনো সমতা হয়নি!
ধাপ ৩: সমতা করো
বাম দিকে O₂ = ২টি অক্সিজেন, ডান দিকে MgO = ১টি অক্সিজেন
ধাপ ৪: চূড়ান্ত সমীকরণ
2Mg + O₂ → 2MgO
বাম: Mg=২, O=২ | ডান: Mg=২, O=২ ✓
👀
উদাহরণ ২: বিক্রিয়ার ধরন শনাক্ত করা
দস্তা (Zn) লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে জিংক ক্লোরাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস
উৎপন্ন করে।
সমতা করার পর: Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl₂(aq) + H₂(g)
এটি একটি প্রতিস্থাপন (displacement) বিক্রিয়া — কারণ Zn
মৌলটি যৌগে থাকা H-কে প্রতিস্থাপন করেছে। বোর্ড পরীক্ষায় প্রায়ই বিক্রিয়ার ধরন
(সংযোজন/বিয়োজন/প্রতিস্থাপন) শনাক্ত করতে বলা হয়।
✍️
নিজে করো: সমীকরণ সম্পূর্ণ করো
নিচের সমীকরণের খালি জায়গাগুলো পূরণ করো:
H₂ + O₂ → ___H₂O
ডান দিকে H₂O-তে ১টি O আছে। বাম দিকে O₂-তে ২টি O আছে।
তাই H₂O-এর সামনে ২ বসবে।
উত্তর: 2H₂ + O₂ → 2H₂O
অতিরিক্ত অনুশীলনী: CaCO₃(s) --Δ--> CaO(s) + CO₂(g) — এই বিক্রিয়াটি
সংযোজন, বিয়োজন নাকি প্রতিস্থাপন? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
এটি বিয়োজন (decomposition) বিক্রিয়া, কারণ একটি যৌগ (CaCO₃) তাপ
প্রয়োগে ভেঙে দুটি সরল পদার্থে (CaO ও CO₂) পরিণত হচ্ছে।
✅
যাচাই করো
১. CaCO₃(s) → CaO(s) + CO₂(g) এ Δ কেন ব্যবহার করা হয়?
A উৎপাদ কমানোর জন্য
B তাপ প্রয়োগের জন্য
C বিক্রিয়া ধীর করার জন্য
D কোনোটিই নয়
২. NaOH(aq) তে (aq) অর্থ কী?
A গ্যাস
B জলীয় দ্রবণ
C কঠিন
D তরল
৩. Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl₂(aq) + H₂(g) — এটি কোন ধরনের
বিক্রিয়া?
A সংযোজন
B বিয়োজন
C প্রতিস্থাপন
D প্রশমন
🎉
মডিউল ২ সম্পূর্ণ!
সমীকরণ লেখা তুমি শিখে গেছো।
পড়ো → দেখো → নিজে করো → যাচাই করো
সমতাকরণ (Balancing Equations)
পরমাণুর সংখ্যা বামে ও ডানে সমান করো
📖 পড়ো
👀 দেখো
✍️ নিজে করো
✅ যাচাই করো
📖
সমতাকরণের নিয়ম
কখনো কোনো মৌলের সংকেত পরিবর্তন করা যাবে না (যেমন O₂ কখনো O₃ করা যাবে না)
শুধু সহগ (coefficient) বদলানো যাবে
ধাতু → অধাতু → জটিল যৌগ এভাবে সাজাও
একক পরমাণু আগে, পরে যৌগিক পরমাণু
সমতাকরণ মানে পরমাণু সংরক্ষণ — কোনো পরমাণু তৈরি বা ধ্বংস হয় না!
👀
উদাহরণ ১: Mg + HCl → MgCl₂ + H₂
ধাপ ১
বাম: Mg=১, H=১, Cl=১
ডান: Mg=১, H=২, Cl=২
H ও Cl সমান নয়!
ধাপ ২
HCl-এর সামনে ২ বসাও:
Mg + 2HCl → MgCl₂ + H₂
যাচাই
বাম: Mg=১, H=২, Cl=২
ডান: Mg=১, H=২, Cl=২ ✓
সমতা হয়ে গেছে!
👀
উদাহরণ ২: Al₂O₃ + HCl → AlCl₃ + H₂O
ধাপ ১
Al ব্যালান্স করো — বামে ২, ডানে ১
AlCl₃-এর সামনে ২ বসাও
Al₂O₃ + HCl → 2AlCl₃ + H₂O
ধাপ ২
এখন Cl: ডানে ২×৩ = ৬টি
HCl-এর সামনে ৬ বসাও
Al₂O₃ + 6HCl → 2AlCl₃ + H₂O
ধাপ ৩
এখন H: বামে ৬, ডানে H₂O-তে ২
H₂O-এর সামনে ৩ বসাও
Al₂O₃ + 6HCl → 2AlCl₃ + 3H₂O ✓
👀
উদাহরণ ৩: প্রোপেনের দহন — C₃H₈ + O₂ → CO₂ + H₂O
ধাপ ১ (C ব্যালান্স): বামে ৩টি C, তাই CO₂-এর সামনে ৩ বসাও →
C₃H₈ + O₂ → 3CO₂ + H₂O
ধাপ ২ (H ব্যালান্স): বামে ৮টি H, তাই H₂O-এর সামনে ৪ বসাও →
C₃H₈ + O₂ → 3CO₂ + 4H₂O
ধাপ ৩ (O ব্যালান্স): ডানে মোট O = (৩×২)+(৪×১) = ১০টি, তাই O₂-এর সামনে ৫
বসাও
চূড়ান্ত সমীকরণ: C₃H₈ + 5O₂ → 3CO₂ + 4H₂O
টিপস: প্রথমে C ব্যালান্স করো, তারপর H, সবশেষে O — এই ক্রমে দহন বিক্রিয়া সহজে সমতা করা
যায়।
ধাপ ২: সমীকরণ অনুপাত C:O₂ = ১:১, তাই ১ মোল C-এর জন্য দরকার ১ মোল O₂
ধাপ ৩: আমাদের কাছে O₂ আছে মাত্র ০.৭৫ মোল (দরকারের চেয়ে কম) →
O₂ লিমিটিং
০.৭৫ মোল O₂ দিয়ে বিক্রিয়া করবে মাত্র ০.৭৫ মোল C। অবশিষ্ট C = ১ - ০.৭৫ =
০.২৫ মোল = ৩g কার্বন অতিরিক্ত থেকে যাবে।
✍️
নিজে করো
প্রশ্ন: N₂ + 3H₂ → 2NH₃
২৮g N₂ এবং ৬g H₂ দেওয়া আছে। কে লিমিটিং?
মোল বের করো: N₂ = ২৮÷২৮ = ১ মোল, H₂ = ৬÷২ = ৩ মোল
সমীকরণ বলে ১ মোল N₂-এর সাথে লাগে ৩ মোল H₂
N₂: প্রয়োজন ১, আছে ১ → ঠিক আছে
H₂: প্রয়োজন ৩, আছে ৩ → ঠিক আছে
দুটোই একদম সঠিক পরিমাণে আছে, কেউ অতিরিক্ত নয়!
অতিরিক্ত অনুশীলনী: 2H₂ + O₂ → 2H₂O — ১০g H₂ এবং ৩২g O₂ নিয়ে বিক্রিয়া
করানো হলো। কে লিমিটিং বিক্রিয়ক এবং কত গ্রাম H₂O উৎপন্ন হবে?
মোল: H₂ = ১০÷২ = ৫ মোল, O₂ = ৩২÷৩২ = ১ মোল
সমীকরণ অনুপাত H₂:O₂ = ২:১, তাই ১ মোল O₂-এর জন্য দরকার ২ মোল H₂। H₂ আছে ৫ মোল
(দরকারের চেয়ে বেশি), তাই O₂ লিমিটিং।
উৎপন্ন H₂O = ২×১ = ২ মোল = ২×১৮ = ৩৬g
✅
যাচাই করো
১. লিমিটিং বিক্রিয়ক কাকে বলে?
A যেটি সবচেয়ে বেশি আছে
B যেটি প্রথম শেষ হয়
C যেটির দাম বেশি
D যেটি তরল
২. 2H₂ + O₂ → 2H₂O-তে ২ মোল H₂ এবং ২ মোল O₂ থাকলে কে লিমিটিং?
A H₂
B O₂
C H₂O
D কেউ নয়
৩. যদি একটি বিক্রিয়ক লিমিটিং হয়, তাহলে অপর বিক্রিয়কের কী হয়?
A সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয়
B কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে
C বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়
D নতুন উৎপাদ তৈরি করে
🎉
মডিউল ৫ সম্পূর্ণ!
লিমিটিং বিক্রিয়ক বের করতে পারো তুমি!
পড়ো → দেখো → নিজে করো → যাচাই করো
শতকরা উৎপাদ (Percentage Yield)
বাস্তবে কত তৈরি হলো তা বের করো
📖 পড়ো
👀 দেখো
✍️ নিজে করো
✅ যাচাই করো
📖
ধারণা
বিক্রিয়ায় তাত্ত্বিকভাবে যে পরিমাণ উৎপাদ পাওয়ার কথা, বাস্তবে সবসময় তার চেয়ে কম পাওয়া যায়।
শতকরা উৎপাদ
% Yield = (বাস্তব / তাত্ত্বিক) × ১০০
কেন কম পাওয়া যায়?
• বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না
• পদার্থের ক্ষতি হয়
• পার্শ্ব বিক্রিয়া হয়
👀
উদাহরণ: CaCO₃ → CaO + CO₂
১০০g CaCO₃ থেকে কত ভাগ CaO পাওয়া গেল?
ধাপ ১: তাত্ত্বিক হিসাব
CaCO₃ = ১০০g → ১ মোল
তাত্ত্বিক CaO = ৫৬g (১ মোল)
ধাপ ২: বাস্তব তথ্য
বাস্তবে পাওয়া গেল ৫০.৪g CaO
ধাপ ৩: শতকরা উৎপাদ
% = (৫০.৪ / ৫৬) × ১০০ = ৯০%
👀
উদাহরণ ২: N₂ + 3H₂ → 2NH₃
২৮g N₂-কে পর্যাপ্ত H₂-এর সাথে বিক্রিয়া করানো হলে তাত্ত্বিকভাবে ৩৪g NH₃ পাওয়ার কথা।
বাস্তবে পাওয়া গেল ২৫.৫g। শতকরা উৎপাদ কত?
ধাপ ১: তাত্ত্বিক উৎপাদ = ৩৪g (দেওয়া আছে)
ধাপ ২: বাস্তব উৎপাদ = ২৫.৫g
% Yield = (২৫.৫ ÷ ৩৪) × ১০০ = ৭৫%
✍️
নিজে করো
প্রশ্ন: Zn + H₂SO₄ → ZnSO₄ + H₂
৬৫g Zn থেকে তাত্ত্বিক H₂ = ২g, বাস্তবে পাওয়া গেল ১.৮g
শতকরা উৎপাদ কত?
% Yield = (১.৮ / ২) × ১০০ = ৯০%
অতিরিক্ত অনুশীলনী (উল্টো দিক থেকে চিন্তা করো): একটি বিক্রিয়ায় তাত্ত্বিক
উৎপাদ ৪০g। শতকরা উৎপাদ ৮৫% হলে, বাস্তবে কত গ্রাম উৎপাদ পাওয়া গেছে?
৩. CaCO₃ → CaO + CO₂-তে ২০০g CaCO₃ থেকে তাত্ত্বিক CaO কত g?
A ৫৬g
B ১১২g
C ২০০g
D ১০০g
৪. % yield সবসময় ১০০%-এর কম হয় কেন?
A পরিমাপে ভুল থাকে
B বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না
C তাপ কম দেওয়া হয়
D কোনোটিই নয়
৫. STP-তে ৪৪.৮ L গ্যাস = কত মোল?
A ১ মোল
B ২ মোল
C ০.৫ মোল
D ২২.৪ মোল
🏆
অভিনন্দন!
তুমি সম্পূর্ণ অধ্যায় শেষ করেছো!
⭐⭐⭐
পড়ো → দেখো → নিজে করো → যাচাই করো
📝 বোর্ড প্রশ্ন অনুশীলন
বিভিন্ন ধরনের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান করে নিজেকে যাচাই করো
📖 পড়ো
👀 দেখো
✍️ নিজে করো
✅ যাচাই করো
📖
বোর্ড পরীক্ষায় প্রশ্নের কাঠামো
SSC রসায়ন পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে সাধারণত দুই ধরনের প্রশ্ন আসে — বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং
সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ)।
অংশ
নম্বর
কী যাচাই করে
ক. জ্ঞানমূলক
১
সংজ্ঞা/তথ্য মনে করতে পারা
খ. অনুধাবনমূলক
২
ধারণাটি নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করা
গ. প্রয়োগ
৩
উদ্দীপক থেকে গণনা করে সমাধান করা
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা
৪
বিশ্লেষণ, যুক্তি ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো
এই অধ্যায় থেকে বোর্ডে সবচেয়ে বেশি যা আসে:
• শতকরা সংযুতি থেকে স্থূল/আণবিক সংকেত নির্ণয়
• লিমিটিং বিক্রিয়ক ও শতকরা উৎপাদ একসাথে জিজ্ঞাসা করা
• সমীকরণ সমতাকরণ ও মোল হিসাব প্রয়োগ করে গণনা
• বিক্রিয়ার ধরন (সংযোজন/বিয়োজন/প্রতিস্থাপন) শনাক্তকরণ
👀
সম্পূর্ণ সমাধানসহ ২টি সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা
সৃজনশীল প্রশ্ন ১ — লিমিটিং বিক্রিয়ক + শতকরা উৎপাদ
রবিন গবেষণাগারে ৬.৫g দস্তা (Zn) চূর্ণ নিয়ে পর্যাপ্ত লঘু সালফিউরিক
অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করালো। বিক্রিয়াটি থেকে তাত্ত্বিকভাবে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাস
পাওয়ার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে কম পাওয়া গেল।
ক. স্টইকিওমিতি কাকে বলে?
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যকার ভর, মোল বা আয়তনের
অনুপাতগত হিসাব-নিকাশকে স্টইকিওমিতি বলে।
খ. রাসায়নিক সমীকরণে ভৌত অবস্থা কেন লেখা হয়? ব্যাখ্যা করো।
বিক্রিয়ক ও উৎপাদ কঠিন (s), তরল (l), গ্যাস (g), নাকি জলীয় দ্রবণ (aq)
অবস্থায় আছে তা বোঝানোর জন্য ভৌত অবস্থা লেখা হয়। এতে শুধু সংকেত দেখে বোঝা যায় না এমন
বিক্রিয়ার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।
গ. উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় তাত্ত্বিকভাবে কত গ্রাম হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন
হওয়ার কথা তা নির্ণয় করো।
সমীকরণ: Zn(s) + H₂SO₄(aq) → ZnSO₄(aq) + H₂(g)
মোল Zn = ৬.৫ ÷ ৬৫ = ০.১ মোল
সমীকরণ অনুপাত অনুযায়ী ১ মোল Zn থেকে ১ মোল H₂ পাওয়া যায়, তাই H₂ = ০.১ মোল
ভর H₂ = ০.১ × ২ = ০.২g (তাত্ত্বিক)
ঘ. বাস্তবে যদি ০.১৮g হাইড্রোজেন গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে শতকরা উৎপাদ নির্ণয়
করে বিক্রিয়াটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।
% yield = (বাস্তব ÷ তাত্ত্বিক) × ১০০ = (০.১৮ ÷ ০.২) × ১০০ = ৯০%
যেহেতু ৯০% উৎপাদ পাওয়া গেছে (১০০%-এর কাছাকাছি), তাই বিক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে কার্যকর
হয়েছে বলা যায়। বাকি ১০% ঘাটতির কারণ হতে পারে গ্যাস সংগ্রহের সময় সামান্য ক্ষতি বা
বিক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ না হওয়া।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২ — স্থূল ও আণবিক সংকেত
একটি যৌগে ক্যালসিয়াম ৪০%, কার্বন ১২% এবং অক্সিজেন ৪৮% বিদ্যমান।
যৌগটির আণবিক ভর ১০০।
ক. আণবিক সংকেত কাকে বলে?
যে সংকেতে কোনো যৌগের এক অণুতে উপস্থিত প্রতিটি মৌলের প্রকৃত পরমাণু সংখ্যা
প্রকাশ পায়, তাকে আণবিক সংকেত বলে।
খ. স্থূল সংকেত থেকে আণবিক সংকেত জানতে আণবিক ভরের প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা
করো।
স্থূল সংকেত শুধু মৌলগুলোর সরলতম অনুপাত দেখায়, প্রকৃত সংখ্যা নয়। প্রকৃত
(আণবিক) সংকেত পেতে স্থূল সংকেতের ভরকে কতবার নিলে যৌগের প্রকৃত আণবিক ভরের সমান হয় তা বের
করতে হয়, আর এজন্য যৌগের প্রকৃত আণবিক ভর জানা আবশ্যক।
গ. উদ্দীপকের তথ্য থেকে যৌগটির স্থূল সংকেত নির্ণয় করো।
ধরি ১০০g যৌগ আছে → Ca=৪০g, C=১২g, O=৪৮g
মোল: Ca = ৪০÷৪০ = ১, C = ১২÷১২ = ১, O = ৪৮÷১৬ = ৩
সরলতম অনুপাত Ca:C:O = ১:১:৩ → স্থূল সংকেত = CaCO₃
ঘ. প্রমাণ করো যে, উদ্দীপকের যৌগটির স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত অভিন্ন।
✍️
নিজে করো: ৬টি ভিন্ন ধরনের বোর্ড প্রশ্ন অনুশীলন করো
প্রথমে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো, তারপর মিলিয়ে দেখো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ — মোল ও ভর সংরক্ষণ
একটি পরীক্ষাগারে ৪.৬g সোডিয়াম (Na) ধাতুকে ৩.৬g পানির সাথে বিক্রিয়া
করানো হলো। বিক্রিয়ায় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
ক. মোলার ভর কাকে বলে?
খ. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভর সংরক্ষণ সূত্র বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় সোডিয়ামের মোল সংখ্যা নির্ণয় করো এবং সমীকরণটি
লিখে সমতা করো।
ঘ. উদ্দীপকের উপাত্ত ব্যবহার করে নির্ণয় করো কোনো বিক্রিয়ক লিমিটিং কিনা এবং
কত মোল হাইড্রোজেন উৎপন্ন হবে।
ক: কোনো পদার্থের ১ মোল পরিমাণের ভরকে তার মোলার ভর বলে; একক g/mol।
খ: কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কের মোট ভর ও উৎপাদের মোট ভর সবসময় সমান থাকে —
এটিই ভর সংরক্ষণ সূত্র। এ কারণেই সমীকরণ সমতা করা আবশ্যক, যাতে উভয়পাশে পরমাণুর সংখ্যা
(এবং ভর) সমান থাকে।
ঘ: মোল H₂O = ৩.৬÷১৮ = ০.২ মোল। অনুপাত Na:H₂O = ২:২ = ১:১, তাই ০.২ মোল Na-এর জন্য
ঠিক ০.২ মোল H₂O প্রয়োজন — যা ঠিক ততটুকুই আছে, তাই কেউই লিমিটিং নয়, দুটোই ঠিক
পরিমাণে শেষ হবে। উৎপন্ন H₂ = ০.২÷২ = ০.১ মোল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ — স্থূল ও আণবিক সংকেত
একটি যৌগে নাইট্রোজেন ৩০.৪% এবং অক্সিজেন ৬৯.৬% আছে। যৌগটির আণবিক ভর
৯২।
ক. স্থূল সংকেত কাকে বলে?
খ. স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
গ. উদ্দীপকের তথ্য থেকে যৌগটির স্থূল সংকেত নির্ণয় করো।
ঘ. যৌগটির আণবিক সংকেত নির্ণয় করো এবং তা স্থূল সংকেত থেকে ভিন্ন কিনা
দেখাও।
ক: যে সংকেত কোনো যৌগে উপস্থিত মৌলগুলোর সরলতম পূর্ণসংখ্যা অনুপাত প্রকাশ করে, তাকে
স্থূল সংকেত বলে।
খ: স্থূল সংকেত সরলতম অনুপাত দেখায়, আণবিক সংকেত প্রকৃত সংখ্যা দেখায়। যেমন — গ্লুকোজের
স্থূল সংকেত CH₂O হলেও আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆। কোনো যৌগে দুটি সংকেত একই হতেও পারে
(যেমন CaCO₃), আবার ভিন্নও হতে পারে।
গ: মোল N = ৩০.৪÷১৪ ≈ ২.১৭, O = ৬৯.৬÷১৬ ≈ ৪.৩৫। ছোট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে N:O ≈ ১:২।
স্থূল সংকেত = NO₂
ঘ: স্থূল সংকেতের ভর = ১৪+(১৬×২) = ৪৬। n = ৯২÷৪৬ = ২। আণবিক সংকেত = (NO₂)₂ =
N₂O₄ — এটি স্থূল সংকেত (NO₂) থেকে ভিন্ন, কারণ n=২ (১ নয়)।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন — ব্যাখ্যামূলক
বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত সবগুলো বিক্রিয়ক কখনো সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয় না
কেন? দুটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
(১) বিক্রিয়া অনেক সময় সম্পূর্ণভাবে শেষ পর্যন্ত না গিয়ে থেমে যায় (উভমুখী বা
অসম্পূর্ণ বিক্রিয়া), ফলে কিছু বিক্রিয়ক অবিক্রিত থেকে যায়।
(২) পরিমাপ, স্থানান্তর বা সংগ্রহের সময় পদার্থের কিছু অংশ নষ্ট/ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে
প্রকৃত উৎপাদ তাত্ত্বিক উৎপাদের চেয়ে কম হয়।
গাণিতিক সমস্যা
২০g কপার (Cu) সম্পূর্ণরূপে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কপার
অক্সাইড (CuO) উৎপন্ন করলে তাত্ত্বিকভাবে কত গ্রাম CuO উৎপন্ন হবে? (Cu = ৬৪, O = ১৬)
(i) 2H₂ + O₂ → 2H₂O
(ii) 2HgO --Δ--> 2Hg + O₂
(iii) Fe + CuSO₄ → FeSO₄ + Cu
(i) সংযোজন বিক্রিয়া (দুটি পদার্থ মিলে একটি তৈরি হয়েছে)
(ii) বিয়োজন বিক্রিয়া (একটি যৌগ ভেঙে দুটি সরল পদার্থ তৈরি হয়েছে)
(iii) প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Fe, Cu-কে প্রতিস্থাপন করেছে)
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ — দহন বিক্রিয়া ও স্টইকিওমিতি
ল্যাবরেটরিতে ২৩g ইথানল (C₂H₅OH) সম্পূর্ণরূপে দহন করা হলে কার্বন
ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়।
ক. দহন বিক্রিয়া কাকে বলে?
খ. দহন বিক্রিয়াকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলা হয় কেন?
গ. ইথানল দহনের সমতাকৃত রাসায়নিক সমীকরণ লেখো।
ঘ. উদ্দীপকের তথ্য থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভর নির্ণয় করো।
ক: যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থ অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাপ ও আলো উৎপন্ন করে পুড়ে
যায়, তাকে দহন বিক্রিয়া বলে।
খ: দহন বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক অপেক্ষা উৎপাদের শক্তি কম থাকে, ফলে অতিরিক্ত শক্তি তাপ
আকারে নির্গত হয় — তাই একে তাপোৎপাদী (exothermic) বিক্রিয়া বলা হয়।
গ: C₂H₅OH(l) + 3O₂(g) → 2CO₂(g) + 3H₂O(l)
ঘ: মোল ইথানল = ২৩÷৪৬ = ০.৫ মোল। ১ মোল ইথানল থেকে ২ মোল CO₂ পাওয়া যায়, তাই ০.৫ মোল
ইথানল থেকে ১ মোল CO₂। ভর CO₂ = ১×৪৪ = ৪৪g
✅
যাচাই করো: বোর্ড স্টাইল MCQ
১. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভর সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী —
A বিক্রিয়কের ভর সবসময় উৎপাদের ভরের চেয়ে বেশি
হয়
B বিক্রিয়কের মোট ভর ও উৎপাদের মোট ভর সমান
থাকে
C উৎপাদের ভর সবসময় বেশি হয়
D ভর ধ্বংস হয়ে যায়
২. একটি যৌগের স্থূল সংকেত CH₂ এবং আণবিক ভর ৪২ হলে আণবিক সংকেত
কী?
A C₂H₄
B C₃H₆
C C₄H₈
D CH₂
৩. Fe + CuSO₄ → FeSO₄ + Cu — এই বিক্রিয়াটি কোন ধরনের?
A সংযোজন
B বিয়োজন
C প্রতিস্থাপন
D দহন
৪. একটি বিক্রিয়ায় তাত্ত্বিক উৎপাদ ৮০g, বাস্তব উৎপাদ ৬৮g হলে
শতকরা উৎপাদ কত?
A ৮০%
B ৮৫%
C ৬৮%
D ৯০%
৫. দুটি বিক্রিয়কের মধ্যে যেটি প্রথমে ফুরিয়ে গিয়ে বিক্রিয়া
থামিয়ে দেয়, তাকে কী বলে?
A অতিরিক্ত বিক্রিয়ক
B লিমিটিং বিক্রিয়ক
C প্রভাবক
D উদ্দীপক
🥇
দারুণ! তুমি বোর্ড প্রশ্নেও প্রস্তুত!
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ধরনগুলো তুমি অনুশীলন করে ফেলেছো।